গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের পূর্ব চান্দরা মুন্সির টেক এলাকায় মুকুলের বাসা থেকে ও উপজেলার মৌচাক ইউনিয়নের আরাবাড়ি এলাকায় শামসুল হকের বাড়ী থেকে দুই নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় ওই দুই নারীর লাশ উদ্ধার করে মৌচাক ফাড়ি ও থানা পুলিশ। রোববার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য দুজনের লাশ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহম্মেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করা হয়।
যাদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে তারা হলেন- ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা থানার শহিদুল ইসলামের স্ত্রী মারিয়া আক্তার স্মৃতি (২১) ও ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী আলোকছবি এলাকার খলিল মিয়ার মেয়ে ফাতেমা (৪০)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থেকে দীর্ঘদিন আগে মারিয়া আক্তার স্মৃতি এবং ঠাকুরগাঁও এর বালিয়াডাঙ্গী এলাকা থেকে ফাতেমা জীবিকার তাগিদে তারা কালিয়াকৈর উপজেলায় আসেন। পরে মারিয়া আক্তার স্মৃতি উপজেলার পূর্ব চান্দরা মুন্সির টেক এলাকায় মুকুলের বাসায় ভাড়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর দুজনেই জীবনযাপন করছেন। তার স্বামী শহীদুল ইসলাম একজন সেলুন ব্যবসায়ী। বিয়ের পর থেকে দুজনের মধ্যে পারিবারিক দ্বন্দ্ব লেগেই থাকতো। প্রতিদিনের মতো শনিবার দুপুরে দুজনার মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর স্বামী কাজে চলে যায়। এ সুযোগে ঘরের ভিতরে গলায় রশি দিয়ে ফাঁস দেয় ওই নারী। সন্ধ্যায় স্বামী বাড়িতে এসে দেখে ঘরের দরজা বন্ধ রয়েছে। এরপর তাকে ডাকাডাকি করার পরও দরজা না খোলায় আশপাশের লোকজন ডাকতে থাকে। আশপাশের লোক ছুটে আসলে দরজা ভেঙে দেখে আড়ার সঙ্গে ঝুলে আছে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীর লাশ উদ্ধার করে। অপরদিকে উপজেলার আরাবাড়ি এলাকায় শামসুল হকের বাড়ির ভাড়াটিয়া বাসা থেকে এক গার্মেন্টস শ্রমিক ফাতেমার ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুক আরাবাড়ি এলাকায় ফাতেমার লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কালিয়াকৈর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাখাওয়াত বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ময়না তদন্তের জন্য দুজনের লাশ গাজীপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।