তালাশ বিডি’র প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন ভারপ্রাপ্ত সুপার আমিনুল ইসলাম
অনলাইন পত্রিকা তালাশ বিডি-তে প্রকাশিত “সুপারের বরখাস্ত প্রত্যাহারেও দায়িত্ব ছাড়ছে না ভারপ্রাপ্ত সুপার, ভুয়া সনদে নিয়োগের অভিযোগ সকলের ৬ মাস থেকে বেতন বন্ধ” শিরোনামের সংবাদটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন কামাত আঙ্গারিয়া দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আমিনুল ইসলাম।
এক লিখিত প্রতিবাদলিপিতে তিনি বলেন, উক্ত সংবাদে তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে তার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। সংবাদটি প্রকাশের আগে তার কাছ থেকে সঠিকভাবে বক্তব্য নেওয়া হয়নি, যা সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী এবং একতরফা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ম্যানেজিং কমিটি না থাকায় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্ব দখল করে রাখার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
বেতন, বয়স সংশোধন কিংবা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বিষয়ে একক ক্ষমতাবলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার যে অভিযোগ সংবাদে উত্থাপন করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ অসত্য বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সকল কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাগজপত্র, নীতিমালা ও আদেশ অনুসরণ করেই সম্পন্ন করা হয়েছে।
ভুয়া সনদ, জালিয়াতি, অনৈতিক লেনদেন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও তিনি সরাসরি অস্বীকার করে বলেন, এসব অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে ছড়ানো হয়েছে।
শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন বন্ধ থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, এটি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়; বরং প্রশাসনিক জটিলতা ও কমিটি সংক্রান্ত সমস্যার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ দায় তার ওপর চাপানো সম্পূর্ণ অন্যায়।
প্রতিবাদলিপিতে তিনি উল্লেখ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের অনিয়ম আড়াল করতে এবং তাকে বিতর্কিত করতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে।
এ বিষয়ে তালাশ বিডি কর্তৃপক্ষের কাছে অবিলম্বে প্রকাশিত সংবাদ সংশোধন বা প্রত্যাহার করে তার প্রতিবাদ বক্তব্য প্রকাশের দাবি জানান তিনি। অন্যথায় তিনি সম্মানহানির অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন।
উল্লেখ্য যে নিয়োগ জালিয়াতির মামলায় কামাত আঙ্গারিয়া মাদ্রাসার সুপার সাইদুর রহমানকে (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।
মামলার বিবরণ ও ভুক্তভোগীর নিকট থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, দীর্ঘ ২২ বছর অফিস সহকারী পদে চাকরি করার পর জালিয়াতি করে গত বছরের আগস্ট মাসে অফিস সহকারী সফিয়ার রহমানকে ইবতেদায়ী জুনিয়র শিক্ষক দেখিয়ে নতুন করে এমপিওভুক্ত করেন সুপার। অথচ অফিস সহকারী পদে ২০০২ সালে (ইনডেক্স ২৬৯২৩৩২) নিয়োগ পান মো. সফিয়ার রহমান এবং ২০১৪ সালের জুলাই মাসে উচ্চতর স্কেল প্রাপ্ত হন। এদিকে অফিস সহকারী পদ শূন্য দেখিয়ে গোপনে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ওই পদে (এসিও) মো. খালেদুজ্জামানকে নিয়োগ দেন। যার ইনডেক্স (গ০০৫৪১৮০), এমপিওভুক্তির তারিখ ২০২৪ সালের মার্চ। তার জন্ম তারিখ ১৯৭৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি। সেই হিসেবে তার বর্তমান বয়স ৪৬ পেরিয়ে গেছে যা এমপিওভুক্তির শর্তকে লঙ্ঘন করে।
মাদ্রাসার সুপার ১৮ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখে তার আপন ভাতিজা মোস্তাফিজুর রহমানকে সহকারী মৌলভী পদে নিয়োগ দেন। নিয়োগ বিধিমালায় নিবন্ধন সনদ বাধ্যতামূলক হলেও উক্ত ব্যক্তির কোনো নিবন্ধন সনদ নেই। সুপার অনলাইনে সার্চ দিয়ে একই নামীয় অন্য ব্যক্তির নিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করে বিপুল অর্থের বিনিময়ে ২০১৮ সালের ১ মার্চ তারিখে এমপিওভুক্তি করান এবং তার ইনডেক্স নম্বর (ঘ২১২১৭৮৩)।
মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে দাখিল করলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরেজমিন তদন্ত করে এর সত্যতা প্রমাণিত হয়। ২৬ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেলে ৩:৪৪ মিনিটের সময় ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: গোলাম ফেরদৌস কে কামাত আঙ্গারীয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো: সাইদুর রহমান ঘুস প্রদান কালে পালিয়ে যায় ।
এসব বিষয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় নিউজ প্রকাশ হয়। তার পর থেকে অত্র মাদ্রাসায় ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়ীত্ব পালন করছেন আমিনুল ইসলাম।
তিনি আরো বলেন এডহক কমিটির মেয়াদ 26 আগষ্ট 2025 ইং শেষ হলে সাইদুর রহমান 27 আগষ্ট 2025 ইং সালে কমিটির বিরুদ্ধে তার পদ পূর্ণবহালের জন্য জবাব চেয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলার কমিটির পক্ষে সভাপতি মাহফুজুর রহমান মামুন বলেন জিআর 20/25 (ভূরু) মামলায় বাদীর বিরুদ্ধে জালিয়াতীর প্রমাণ পাওয়ায় ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ বাদীর বিরুদ্ধে চার্জসীট দাখিল করেন যাহা আদালত 17 সেপ্টেম্বর 2025 ইং তারিখে গ্রহণ করেন। বাদীর মামলা Thw Specific Relief Act, 1877 এর 56 (আই) ধারায় বারিত হওয়ায় বাদী তাহার প্রার্খীত প্রতিকার পাইতে হকদার নহে।
তিনি বলেন এখন পর্যন্ত সাইদুর রহমান এর বহিস্কার প্রত্যাহারের কোন ডকুমেন্টস বা অনুমতি পত্র তিনি পান নি। সরকারি বিধি মোতাবেক বহিস্কার প্রত্যাহারের অনুমতি পত্র হাতে পাওয়া মাত্রই তিনি দায়িত্ব ছেরে দিবেন।