সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
চেয়ারম্যান তারেক রহমান-কে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতীয় পার্টি-র চেয়ারম্যান জিএম কাদের। মোহনগঞ্জে জমি নিয়ে সংঘর্ষ আহত- ১৫ লালপুরে ৪৮০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী আটক নাসিরনগরে বিজয়ী প্রার্থীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা, রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের দৃষ্টান্ত নির্বাচিত হওয়ার পরদিনই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বাসায় শুভেচ্ছা বিনিময়ে বিজয়ী প্রার্থী গাজীপুর -১ আসনে মজিবুর রহমানকে নির্বাচিত করায় ভোটারদের সংবর্ধনা নেত্রকোণা- ৪ আসনে লুৎফুজ্জামান বাবর বিজয়ী সুনামগঞ্জ -৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ বিপুল ভোটে বিজয়ী প্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্না জামানত হারালেন

একজন মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা: রতন শেখ

সিলেট প্রতিনিধি
  • আপডেটের সময়: সোমবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৫
  • ১৬৩ সময় দেখুন

একজন মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা: রতন শেখ

বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানা সময় প্রশ্ন ওঠে—দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা জনগণের সাথে দূরত্ব নিয়ে। তবে এখনো কিছু কর্মকর্তা আছেন যারা সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও মানবিকতার দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন হলেন ওসি মো. রতন শেখ পিপিএম। দায়িত্ব নিলেই তিনি সাধারণ মানুষের মনে আস্থা জাগান, অপরাধীদের জন্য হয়ে ওঠেন আতঙ্ক, আর পুলিশ পায় জনগণের বিশ্বাস।

সততা ও নীতি

ঘুষ বা অন্যায্য সুবিধার প্রলোভনে তিনি কখনো নতি স্বীকার করেননি। বরং দেখিয়েছেন—সততার মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করাই একজন পুলিশ কর্মকর্তার সবচেয়ে বড় শক্তি। এজন্য সাধারণ মানুষ তাকে শুধু কর্মকর্তা নয়, একজন অভিভাবক হিসেবেও মনে করে।

ব্যক্তিগত জীবন

রতন শেখ ১৯৭৩ সালের ৫ নভেম্বর বাগেরহাট সদর উপজেলার হরিণখানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা-মা মরহুম ইসমাইল শেখ ও মরহুমা রিজিয়া বেগম। ছয় সন্তানের মধ্যে তিনি দুই ভাইয়ের একজন। স্ত্রী নিগার সুলতানা একজন গৃহিণী এবং তাঁদের একমাত্র কন্যা আরিশা নূর রাইসা এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।
শৈশব থেকেই ইসলামি মূল্যবোধে বেড়ে ওঠা রতন শেখ বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।

কর্মজীবন

১৯৯৪ সালে তিনি সরাসরি এসআই পদে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। পুলিশ একাডেমি সারদায় এক বছরের প্রশিক্ষণ শেষে প্রথম কর্মস্থল ছিল মাগুরা সদর থানা। পরে দীর্ঘ সময় তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে জিআরও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কুষ্টিয়া ও সাতক্ষীরায় কোর্ট ইন্সপেক্টর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
২০১০ সালে ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পান এবং একই বছরে সাতক্ষীরায় প্রথমবার ওসি তদন্ত হিসেবে কাজ শুরু করেন। এরপর তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ একাধিক থানায় দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০১৩-২০১৪ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সুদানে অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হন।

পুরস্কার ও সম্মাননা

কর্মজীবনে সততা ও নিষ্ঠার জন্য তিনি একাধিক সম্মাননা লাভ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে—

আইজিপি ব্যাজ (২ বার)

জাতিসংঘ শান্তি মিশন পদক

শুদ্ধাচার পুরস্কার

দর্শন ও জনপ্রিয়তা

তিনি মনে করেন, সরকারি চাকরিজীবীরা সৎ থাকলে দেশ পরিবর্তন হয়। এই দর্শন থেকেই তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন এবং সাধারণ মানুষের পাশে থাকেন।
তার বদলির সময় স্থানীয় মানুষ বারবার আন্দোলন ও স্মারকলিপি দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে—যা একজন কর্মকর্তার প্রতি জনআস্থার বাস্তব উদাহরণ।

উপসংহার

বাংলাদেশে মানবিক ও সৎ পুলিশ কর্মকর্তার সংখ্যা কম নয়, তবে রতন শেখ তাদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান ও মানবিকতার উদাহরণ তাকে আলাদা করেছে। তার জীবনপ্রবাহ প্রমাণ করে, সততা, নিষ্ঠা ও সাহস থাকলে পুলিশ মানেই শুধু অভিযান নয়—জনগণের ভরসার প্রতীকও হতে পারে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © ২০২৫ হেমন্ত কাল
ESAITBD Sof-Lab UAE/BD