কমলগঞ্জে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চিরবিদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপি নেতা ক্যাপ্টেন (অব.) সাজ্জাদুর রহমানকে
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় গভীর শোকের ছায়া। না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক ক্যাপ্টেন (অব.) সাজ্জাদুর রহমান। তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে সোমবার (২১ জুলাই) রাত ৮টা ১৫ মিনিটে সিলেটের মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
সাজ্জাদুর রহমান ছিলেন একজন আদর্শবান মুক্তিযোদ্ধা ও দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি সিলেট সীমান্তের ধলই ফ্রন্টে শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমানের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন। দেশমাতৃকার টানে অস্ত্র তুলে নেওয়া এই বীর সন্তান পরবর্তীতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন এবং কমলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি শুধু রাজনৈতিক নেতা নন, ছিলেন একজন মানবিক সংগঠক ও জনদরদী মানুষ। সমাজসেবা, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াঙ্গনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর অবদান ছিল চোখে পড়ার মতো। কমলগঞ্জবাসীর হৃদয়ে তিনি এক আদর্শিক ও সংগ্রামী নেতার নাম।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বেলা ২টায় শমশেরনগরের শিংরাউলী ইলেভেন স্টার মাঠে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাখন চন্দ্র সূত্রধর এবং কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জাফর মো. মাহফুজুল কবিরের উপস্থিতিতে পুলিশের একটি চৌকস দল তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করে।
জানাজার পূর্বে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, “বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন (অব.) সাজ্জাদুর রহমান ছিলেন একজন নির্ভীক দেশপ্রেমিক ও আদর্শ রাজনীতিক। তাঁর কর্ম ও অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।” জানাজা শেষে বেলা আড়াইটায় শিংরাউলী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন পুত্র, তিন কন্যা ও বহু নাতি-নাতনীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।
বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী পরিবার গভীর শোক প্রকাশ করেছে। শোকবার্তা দিয়েছেন—
বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব)
কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা
কুলাউড়ার সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নওয়াব আলী আব্বাস খান
মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ুন
কমলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অলি আহমদ খান
সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান
শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সাবেক মেয়র মহসিন আহমদ মধু
জেলা বিএনপির সদস্য দুরুদ আহমদ
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আবুল হোসেনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
একজন নেতার অনুপস্থিতি, এক এলাকার শূন্যতা
কমলগঞ্জবাসী হারালেন একজন মুক্তিযোদ্ধা, সংগ্রামী নেতা ও জনদরদী অভিভাবককে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তাঁর সততা, সাহসিকতা ও নিষ্ঠা তাঁকে একটি প্রজন্মের কাছে আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
আল্লাহ তাআলা তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন—এই প্রার্থনায় মুখর ছিল শোকাবহ জানাজার মাঠ ও শ্মশেরনগরের আকাশ-বাতাস।