ময়মনসিংহে জামায়াত নেতা কামরুল আহসান এমরুলের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা: ‘আদর্শ ও বাসযোগ্য সদর’ গড়ার অঙ্গীকার
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনে নির্বাচনী উত্তাপ তুঙ্গে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দলীয় ঐক্যজোটের মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা কামরুল আহসান এমরুল তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন। শনিবার স্থানীয় একটি মিলনায়তনে আয়োজিত জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ইশতেহার উপস্থাপন করেন।
দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও সুশাসনের প্রতিশ্রুতি
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই মাওলানা কামরুল আহসান এমরুল বলেন, “আমরা এমন একটি ময়মনসিংহ গড়তে চাই যেখানে প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত থাকবে। আমি নির্বাচিত হলে ময়মনসিংহ সদর আসনকে একটি দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক এলাকায় রূপান্তর করব। সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই হবে আমার মূল লক্ষ্য।”
ইশতেহারে উল্লেখিত প্রধান অঙ্গীকারসমূহ:
সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থী তাঁর ইশতেহারের মূল পয়েন্টগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন:
আধুনিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা: প্রতিটি ইউনিয়নে মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত স্বাস্থ্যকেন্দ্র নিশ্চিত করা হবে। চর এলাকার মানুষের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্য ক্যাম্প ও অ্যাম্বুলেন্স সেবার ব্যবস্থা করা হবে।
বেকারত্ব দূরীকরণ ও কর্মসংস্থান: তরুণদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন এবং স্থানীয় শিল্পায়নের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
যানজট নিরসন ও অবকাঠামো উন্নয়ন: ময়মনসিংহ শহরের দীর্ঘদিনের অভিশাপ ‘যানজট’ নিরসনে বাইপাস সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
সামাজিক নিরাপত্তা ও অধিকার: নারী, শিশু এবং প্রবীণদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও শক্তিশালী করা হবে। সংখ্যালঘু ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজর রাখা হবে।
কৃষি ও কৃষকবান্ধব কর্মসূচি: সদরের কৃষিপ্রধান এলাকাগুলোর জন্য সুলভ মূল্যে সার, বীজ এবং সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার ঘোষণা দেন তিনি।
ঐক্যের ডাক ও ভোটারদের প্রতি আহ্বান
১০ দলীয় জোটের এই প্রার্থী আরও বলেন, ময়মনসিংহ-৪ আসনটি রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই আসনকে একটি আদর্শ ও বাসযোগ্য এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি দলমত নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ভোটাররা এবার পরিবর্তনের পক্ষে এবং ইনসাফ কায়েমের পক্ষে রায় দেবেন।
সংবাদ সম্মেলনে ১০ দলীয় জোটের স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বশীলগণ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। ইশতেহার ঘোষণা শেষে মাওলানা এমরুল সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।