বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
আদালতের জামিননামা ছাড়াই হত্যা মামলার তিন আসামির মুক্তি, তদন্ত কমিটি গঠন ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী বাজারে বিএনপির নির্বাচনী পথ সভায়- প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল ময়মনসিংহে জনসমুদ্র: ঐতিহাসিক সার্কিট হাউস মাঠে তারেক রহমান নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও সহযোগিতা নিশ্চিত করতে ইসির বিশেষ বার্তা ঘোড়ার গাড়িতে প্রধান শিক্ষকের রাজকীয় বিদায় তারেক রহমানের সফর সফল করতে প্রস্তুত ময়মনসিংহ, প্রেসক্লাবে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন নড়াইলের নবগঙ্গা নদীর ওপর সেতু: দেড় বছরের কাজ আট বছরেও শেষ হয়নি ভোলাহাট সীমান্তে মধ্যরাতে ৫৯ বিজিবি’র অভিযান বিপুল পরিমাণ ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ আটক নড়াইলে কৃষকেরা বোরো ধান রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছে কালিয়াকৈরে পিপড়াছিট মাঠ প্রাঙ্গনে মজিবুর রহমানের ধানের শীষ মার্কার ওঠান বৈঠক।

ওসির নির্ঘুম রাত, নিরাপদ ছিল সাভার

রিপোর্টার নাম:
  • আপডেটের সময়: সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৮৮ সময় দেখুন

ওসির নির্ঘুম রাত, নিরাপদ ছিল সাভার

সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জুয়েল মিঞা ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর থানা-পুলিশের কার্যক্রম যেন নতুনভাবে প্রাণ ফিরে পায়। তার যোগদান শুধু প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়—এ যেন ছিল সাভার থানা এলাকার মানুষের জন্য এক দক্ষ অভিভাবকের আগমন।

দীর্ঘদিন ভঙ্গুর, নানামুখী চ্যালেঞ্জে জর্জরিত সাভার মডেল থানা তার নেতৃত্বে পায় নতুন গতি, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি। থানা প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে সেবার মান—সব ক্ষেত্রেই চলে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার নিরলস প্রয়াস। সেবা প্রত্যাশী সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত শ্রেণির জন্য তিনি হয়ে ওঠেন ‘গরীবের ওসি’। মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়াকে তিনি নিজের দায়িত্বের অংশ মনে করতেন। দিনের পর দিন ওসির এই নির্ঘুম রাত যাপনে নিরাপদ ছিল সাভার।

তার নেতৃত্বে সাভার মডেল থানা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশের অনেক থানার তুলনায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে দৃষ্টিনন্দন সফলতা অর্জন করে। অপরাধ দমন, দ্রুত অভিযান, পেশাদারিত্বের সঙ্গে ঘটনা তদন্ত—সব ক্ষেত্রেই তিনি দেখিয়েছেন অনন্য দক্ষতা। ফলে সাভার থানায় জন্ম নেয় নতুন আস্থা, নতুন নিরাপত্তাবোধ।

১ বছর ২ মাস ২৩ দিনের মধ্যে পাঁচবার ঢাকা জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ নির্বাচিত হওয়া তার দক্ষতার প্রতিফলন। শুধু পদক নয়, জনমানুষের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও আস্থা ছিল তার সবচেয়ে বড় অর্জন।

সাভার থানা এলাকায় ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড রোধে  ফ্যাসিস্ট নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এক সাহসী প্রতিরোধ-চরিত্রের নাম জুয়েল মিঞা। রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে রাজনৈতিক নিপীড়ন, হয়রানি, বেআইনি তৎপরতা দমনে তার দৃঢ় অবস্থানও থানা এলাকাকে এক নিরাপদ পরিবেশে ফিরিয়ে আনে। এতে তিনি মানুষের চোখে হয়ে ওঠেন এক নির্ভীক, নিরপেক্ষ এবং ন্যায়পরায়ণ পুলিশ অফিসার হিসেবে।

এখন তার পরবর্তী কর্মস্থল মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর থানা। সাভারের মানুষ যেমন তাকে বিদায় জানাতে আবেগভরে মনে রেখেছেন, ঠিক তেমনি শ্রীনগরের মানুষও তার নেতৃত্বে নতুন আশার আলো দেখতে শুরু করেছে। সাভারে যেমন তিনি মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন, তেমনি শ্রীনগরেও তিনি দক্ষ পুলিশিং, স্বচ্ছতা ও মানবিকতার উদাহরণ তৈরি করবেন—এমন প্রত্যাশা সর্বত্র।
সবার কাছে গ্রহণযোগ্য, দল মত নির্বিশেষে সবার অভিভাবক, এক কথায় ‘মানুষের ওসি’ হিসেবে মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া আগামী দিনে শ্রীনগর থানাকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন—এটাই জনমানুষের দৃঢ় বিশ্বাস।

সার্বিকভাবে, একজন পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ববোধ, সততা, মানবিকতা ও দৃঢ় নেতৃত্ব কিভাবে একটি এলাকার পরিস্থিতি পাল্টে দিতে পারে—ওসি জুয়েল মিঞা তার জীবন্ত উদাহরণ। সাভারের মানুষ তাকে দীর্ঘদিন শ্রদ্ধা ও ভালবাসার সঙ্গে স্মরণ করবে, আর শ্রীনগরের মানুষ আগামীর উন্নত ও ন্যায়ভিত্তিক পুলিশিংয়ের প্রত্যাশায় তাকিয়ে আছে তার দিকে।

পরিশেষে সাভারের মতো শ্রীনগরেও কাটুক ওসির নির্ঘুম রাত, নিরাপদ থাকুক তার পরবর্তী কর্মস্থলের সব শ্রেণী পেশার মানুষ। অনেক অনেক শুভকামনা, ভালোবাসা নিরন্তর।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © ২০২৫ হেমন্ত কাল
ESAITBD Sof-Lab UAE/BD